বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০

কালো ‌জাদু ‌শিখুন .

আপনারা যারা যাদু জগতে নতুন এবং যারা যাদুর প্রাচিন কৌশল সম্পরকে জানতে চান তাদের জন্য এটি গুরুত্তপুর্ন পোস্ট। আপনি কি যাদু বিদ্যা কে ভালভাবে বুঝতে চান? কিন্তু কোথাও সমাধান পাচ্ছেন না! আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম প্রাচীন এক যাদু শিক্ষার বই। বইটি লিখেছেন মিশরের তন্ত্রবীদ "শাইখ ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালী",,
আপনারা অনেকেই হয়তো এমন একটি বই খুজছেন,, কিন্তু বর্তমানে এমন তান্ত্রীক বই,, তাও আবার সম্পুর্ন বাংলা অনুবাদে পাওয়া খুব কঠিন।
,
,
সুধু আপনাদের জন্য আমরা বইটি অনুবাদ করে এর "pdf" কপি বের করেছি। বইটিতে পাবেন ___
,
,
,
,
,
★ যাদুর পরিচয়,
★ যাদুর অস্তিত্ব এর প্রমাণ,
★ যাদুর প্রকারভেদ
★ যাদুকরের জীন হাজির করার পদ্ধতি,
★ যাদুকর চেনার পদ্ধতি,
★ যাদু দিয়ে যাদু ঠেকানর উপায়,
★ যাদুর প্রতিকার,
★ স্বামী-স্ত্রী এর মদ্ধে বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদু,
★ আসক্ত করার যাদু,
★ নজর বন্দি বা ভেল্কিবাজি যাদু,
★ পাগল করার যাদু,
★ একাকিত্ত ও নির্জনতা পছন্দের যাদু,
★ ওজানা আওয়াজ শুনতে পাওয়া,
★ ভয়ানক স্বপ্ন
★ যাদু দিয়ে কাউকে শারিরীক ভাবে রোগি করা
★ বিয়ে ভাংার যাদু,
★ স্ত্রী সহবাসে অপরাগ হওয়ার চিকিৎসা
★ যাদুর প্রয়জনিয় তত্থ সমুহ
★ যৌন দূরবলতা
★জিনের বদ নজর এর প্রতিকার
"
"
এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক প্রয়জনিয় তত্থ সমুহ।
"
"
আপনাদের শেখার উদ্দেশ্যে অতি সল্প মূল্যে বইটির বিক্রয় চলছে।
"
আশা করি বইটি পড়ে আপনারা উপক্রিত হবেন।
" কালো জাদুর বই টি 1/15 খন্ড বই টি স্কিন করে পিডিএফ লিংক করা হয়েছে. আপনারা আমাদের থেকে কালো জাদুর pdf .বই কিনে মোবাইলে বা টেবে . লেপটবে . স্কিন করে পরতে পারবেন . pdf .বই .মুল্য 1550/৳. নিতে আজি যোগা যোগ করুন / 01978142102

সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০

জ্বীন ‌সাধনা

জ্বিন সাধনা

জিন বশীকরণ মন্ত্র:আছমানে সুলেমান|চন্ডাল
কুণ্ডাল জিন আখফান আমার বশে আন|জুল জাল মহা
ইন্দ্রজাল|আমার বাক্য যথা আকাশ পাতাল|এই বাক্য
ঠেলেনা জিন আখফান মহাকাল|সুলেমান নবী
আল্লার বাক্যে রও|আল্লার হুকুমে জিন্নি আমার
আয়ত্ব হও|না হইলে আজরাইলের জমের ঘরে
যাও||||
এই মন্ত্র শনিবার মধ্যরাতে যথা উপকরণ ও
নিয়ম অনুযায়ী পাঠ করলে জিন নিজ সম্মুখে হাজির হবে ও বশীভূত হবে.
তার আগে অবসই কোন তান্তিক বা ভালো গুরুর অনোমতি নিয়ে চন্ডিবরন
করে নিবেন না হলে সাধকের ভয়ানক ক্ষতি হবে ..যে কোন সাধনা করার আগে অবসই আমাদের সাথে যোগা যোগ করবেন ..তান্তুিক গুরু ‌আজিজ ‌রহমাব ..ফোন .01757786808
Montrogurbd12@gmail.com

শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০

Short Charm ( টোটকা )



Short Charm (টোটকা)


টোটকা

হাপানী রোগের ঔষধঃ


Ø রোগীর যত বয়স তত ফোটা ( ২৫ ফোটার বেশি নয়) তারপিন তৈল মধুর সহিত মিলাইয়া সকালে ও সন্ধ্যায় খাইলে হাপানী উপশম হয়।

Ø শনি বা মঙ্গল যুক্ত আমাবস্যার দিন কচ্ছপের মাথার হাড় ও তৎসহ ১টি শিমুলের বীচি সোনার মাধুলীতে ভরিয়া গলায় ধারন করিলে হাপানী রোগ ভালো হয়।

Ø তামার মাধুলীতে কচ্ছপের মাথার হাড় ও তটি শিমুলের বীচি ভরিয়া মাথায় ধারন করিলে হাপানী ভালো হয়।

Ø আকন্দের পাতা, কাঁচা হলুদ, কুকুর দ্বার মূল, পিপুল, গোল মরিচ এই সমস্ত কিছু সমপরিমাণে পিষিয়া ২ মাষা পরিমাণ গুলি তৈয়ার করিয়া প্রতিদিন তিন বার করে নিয়মিত খাইলে মৃগি রোগ ভালে হয়।

Ø গাওয়া ঘি, মধু, গোলমরিচ, মৌরী, আদার রস, পানের রস সব মিলাইয়া খাইল হাপানী ভাল হয়।

(গাভীর দুধ, ভাত, মুগের ডাল, ইত্যাদি খাওয়া নিষেধ।)

স্বপ্নদোষ বন্ধ করার টোটকাঃ






Ø শনিবার অথবা মঙ্গলবার দিন চিতা ঘাট হইতে কাল ধুতুরার গাছের পূর্ব দিকের শিকড় পূর্বদিকে মুখ করিয়া শ্বাস বন্ধ করিয়া তুলিবে এবং তা তাবিজের মধ্যে উক্ত শিকড় ভরিয়া মোম দ্বারা মুখ বন্ধ করতঃ কোমরে ধারণ করিলে স্বপ্নদোষ হয় না।






Ø পূষ্যনক্ষত্রযুক্ত শনিবার দিন লাজবন্তি গাছের শিকড় পূর্ব দেকে মুখ করিয়া শ্বাস বন্ধ করে তুলিয়া তাবিজে ভরিয়া কোমরে ধারন করিলেও স্বপ্নদোষ বন্ধ হয়।






Ø রাত্রে শুইবার পূর্বে পূরুষাঙ্গে বেশী করিয়া ঠান্ডা পানি ঢালিয়া শুইলে স্বপ্নদোষ হয় না।






Ø পূরুষাঙ্গের গোড়ায় শিষা বাধিয়া শুইলে স্বপ্নদোষ হয় না।






ছোট শিশু বিছনায় প্রসাব বন্ধ করাঃ






Ø অনেক সময় দেখা যায় যে, কিছু কিছু বাচ্চা ৩/৪ বছর বয়স হয়েও বিছানায় প্রসাব করে। এতে করে গার্জিয়ানদের ভিষন বিরম্বনায় পড়তে হয়। এটা বন্ধ করার জন্য শনিবার অথবা মঙ্গল বার দিন রাই সরিষার শিকড় ও বাশ তলার মাটি আনিয়া একত্রে পিষিয়া শিশুকে ঘরের ছোনচার নিচে ( যেখানে ঘরের চালের বৃষ্টি পড়ে) দাড় করাইয়া গোসল করাইতে হবে। এবং সেই গোসলের পর ভিজা কাপড়েই তাকে সেই ঔষধ টুকু খাওয়ায়ে দিবে এতে করে আর সে কখনও বিছানায় প্রসাব করিবে না।।






নিদ্রা অধিক হইলে তার প্রতিকারঃ






Ø সিরকা এক শিশিতে ভরিয়া তাহাকে দিনে বিশ বা পঁচিশ বার নাকে শুকিতে হইবে। ইহাতে সেই ব্যক্তির ঘুম আর আসিবে না।।






Ø রবিবার দিন যদি তাজা সবুজ লঙ্কা ও কাচা হলুদ, লেবু, লাল রঙ্গের ধাগায় গেঁথে নজর দোষযুক্ত স্থানে টাঙ্গিয়ে দেওয়া যায় তবে সেখানে লাগা কুনজর সমাপ্ত হয়ে যায় এবং পূনরায় সুখ ও সমৃদ্ধি ফিরে আসবে।।


Ø কোনও রবিবার দিন সাদা আখের শিকড় এনে তাতে ছিদ্র করে কালো রং-এর কাঁচা সুতোর ধাগা তৈরী করে নিতে হবে। এবার সেটি বাচ্চার গলায় পরিয়ে দিতে হবে। এর ফলে বাচ্চাটির কোনও কুনজর লাগবে না এবং যদি ইতিমধ্যে লেগে থাকে তবে তা কেটে যাবে।।


Ø Ø হঠাৎ ধন প্রাপ্তির জন্য শনিবার তান্ত্রিক বিধান মেনে কোন বহেড়া গাছকে “মম কার্য্য সিদ্ধিং কুরু কুরু স্বাহা।।” এই মন্ত্রে নিমন্ত্রন জানিয়ে আসতে হবে। এবং পরদিন সকালে অর্থাৎ রবিবার ভোরে ঐ গাছের নিকট গিয়ে অনুমতি নিয়ে একটি আস্ত পাতা ( যা পোকায় খাওয়া ছেড়া ফাটা হবে না) নিয়ে আসবে। এবার ঐ পাতাটি নিজের পকেটে বা ব্যগে বা তাবিজে ভরে গলায় ধারন করতে হবে। তাহলে সর্বনিন্ম তিনদিনের মধ্যে আকষ্মিক ধন প্রাপ্তি হবে। তবে বলে রাখি আপনি সেই টাকায় কোটিপতি বা গাড়ী বাড়ী কিনতে পারবেন না। আপনার সে সময়ের প্রয়োজন পুরনের জন্য তা যথেষ্ট হবে।। (বহুল ভাবে পরিক্ষীত)
মুসলিম বশিকরণ টোটকাঃ


মুসলীম শাস্ত্রের বিশাল টোটকা সম্ভার থেকে কিছু প্রচলিত টোটকা আপনাদের জন্য দিলাম সম্ভব হলে এগুলোর ব্যবহার করে নিজে ও অন্যকে উপকৃত করতে পারেন, যে কোন টোটকা করার উপকরণ গুলো অবশ্যই তান্ত্রিক উপায়ে সংগ্রহ করতে হবে, নতুবা কোন গাছের শিকড় আনলেন সেটা শুধু কাঠ হিসেবেই আপনার কোন কাজে আসবে না।। টোটকা একটি সরলতম বিধি বিধান যা প্রকৃতির নিয়মকে সাময়িক অনিয়মে পরিনত করে, এটা ব্যবহার বেশ সহজ কিন্তু এর উপকরণ গুলো সময় ও বিধিমত সংগ্রহ না করলে কোন ফল লাভ হয় না। বর্তমানে টোটকার প্রচলন সবচাইতে বেশি দেখা যায়।। আপনার প্রয়োজনীয় গাছ বা লতাপাতা যদি আপনার আসে পাসে না পান তবে কাজ করার অন্তত্য ৩ সপ্তাহ আগেই সেই গাছটি নার্সারী থেকে বা যেখানে পাওয়া যায় সেখান থেকে জোগার করে আপনার আসে পাসে লাগাতে পারেন যেখানে আপনার কাজ করা সহজ হবে।। যদি কোন গাছের নাম আপনি বুঝতে না পারেন তবে তা বয় বৃদ্ধ কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করে নিতে পারেন, চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতেও দ্বিধা করবেন না।।






Ø ইংদোরনি চিনাবরী এবং মৈনসিল (চিৎপুরে পাওয়া যায় সমান ভাগে নিয়ে হামান দিস্তায় কুটে নিজের অংগে লাগিয়ে ধুপ-দীপ জ্বালিয়ে সন্মান দেখালে, সাধককে যেই দেখবে সেই মোহিত হয়ে তার প্রতি আসক্ত হবে।।


Ø গোড়া লেবুর শিকড় ও ধুতরার বীজ পিঁয়াজের সাথে মিহি করে পিষে যাকে শুকাঁনো যাবে সেই সাধকের প্রতি আকৃষ্ট হবে।।


Ø মঙ্গল বার দিন যদি আমাবস্যা হয় তবে ঐ দিন দৈনিক ক্রিয়া শেষ করে পবিত্র হয়ে বনে গিয়ে উত্তর দিকে মুখ করে দাঁড়ীয়ে আপাং গাছের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এবার ঐ স্থানে কোন ব্রাম্মনকে ডাকিয়ে ঐ আপাং গাছটিকে বিধি মত পূজা করতে হবে। এবং ব্রাম্মনকে ১৫ মাসা (আনা) স্বর্ন দান করতে হবে। এবার ব্রাম্মনের দ্বারা আপাং গাছটির বীজ এনে তা নিজের ঘরে নিয়ে আসতে হবে। পথে আসার সময় কারও সাথে কথা বলা যাবে না। ঐ বীজ পরিস্কার করে যদি রাজা বা সে উপযুক্ত কোন ব্যক্তিকেও খাওয়ানো যায় তবে সে অবশ্যই জীবন ভর সাধকের বাধ্য হয়ে থাকবে।


Ø বেল পাতা মাতুলংগ ( এক প্রকার লেবু) নিয়ে ছাগলের দুধে পিষে তা দিয়ে তিলক কাটলে তা শ্রেষ্ট বশীকরণ হবে।।


Ø পূষ্য নক্ষত্রে আপাং গাছের বীজ এনে তা পানের সাথে দিয়ে যাকে খাওয়াবে সেই বশিকরণ হবে।


Ø ঘি ও গোয়ারের কন্ত, ভাং এর বীজ এক সাথে পিষে তার দ্বারা তিলক কাটলে, সাধককে যে দেখবে সেই বশিভুত হবে।।


Ø নীল কমল, গুগগুল এবং আগরু এই গুলি সম মাত্রায় নিয়ে পিষতে হবে এবং নিজ শরিলে মালিশ করবে। এর পর ধুপ-ধুনা জ্বালাবে, এতে সাধককে যেই দেখবে সেই আর্কষিত হবে।।


Ø পূষ্য নক্ষত্রে সিংঘীর শিকড় তুলে আনতে হবে, এবং সেটি কোমরে বেধে যদি কোন রাজ সভায়ও যোগ দান করা যায় তবে সেই রাজ সভার সকলেই তাকে সম্মান করবে।।


Ø ডুমুরের ফুলের (যখন ডুমর ফুটে বের হয়) দ্বারা পলিতা বানিয়ে মাখন ভরা প্রদীপে রাতে জ্বালীয়ে কাজল তৈরী করবে, সেই কাজল চোখে পরলে সাধককে যেই দেখবে সেই তাৎক্ষনিখ আর্কষিত হবে।।


Ø পূষ্য নক্ষত্রে অন্ধকার রাত্রে সুগন্ধি তৈলের প্রদিপে কাজল তৈরী করবে এবং তাতে হরতাল ও সোহাগা মিশিয়ে ময়ুরের পাখনা দিয়ে যার মাথায় দেওয়া হবে সেই বশিভুত হবে।।


Ø চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীর দিন চিতা গাছকে আমন্ত্রন জানিয়ে আসবে। এবার নবমীর দিন ঐ গাছ নিয়ে আসবে এবং ধুপ দীপ জ্বালীয়ে নিজের কাছে রাখবে, এতে সকলেই তাকে সম্মান করবে।।


Ø চন্দ্র গ্রহণের সময় সরপোখা গাছের শিকড়কে বিধিমত তুলে এনে জ্বলের সাথে শিল-পাটায় পিষে চোখে কাজলের মত লাগাতে হবে। সেই চোখের দিকে যেই তাকাবে সেই তার দিকে আকৃষ্ট হবে।।


Ø পূষ্য নক্ষত্রে পূনর্নবার শিকড় এনে ডান বাহুতে বাধলে যে কোন লোকেই বশিভুত হয়।।


Ø সুদর্শন গাছের শিকড়কে বাহুতে বেঁধে যে কোন উচ্চ পদস্থ্য লোকের কাছে গেলে সেই বশিভুত হয়।


Ø চন্দন, রোলী, গোরচন, কর্পূর, একসাথে মিশিয়ে কপালে লাগিয়ে সকলেই বশিভুত হয়।।


Ø মেটে সিংগী, বচ, ধুনো, খস্য চন্দন ও ছোট এলাচ সমান মাত্রায় কুটে হামান দিস্তায় পিষতে হবে। এবার ঐ সকল বস্তুর ধুনো তৈরী করে তা জ্বালাবে এবং তার ধুপ ব্যবহৃত কাপরে লাগাবে। সেই কাপর পরে যার সামনে যাবে তাকেই বশ করতে পারবে।।


Ø শ্রাবণা নক্ষত্রের দিনে নিয়ে আসা বেত গাছের টুকরো ডান হাতে ধারন করলে, যুদ্ধেও বীজয় প্রাপ্ত হওয়া যায়।।


Ø চন্দন ও বটের মূল জলের দ্বারা পিষে সমমাত্রায় ভষ্ম মিশিয়ে কপালে তিলক কাটলে, যেই দেখবে সেই বশিভুত হবে।।


Ø ডুমুরের মূল এনে তা পিষে তা দিয়ে কপালে তিলক কাটলেও বশিকরণ হয়।।


Ø পঞ্চমী তিথিতে হুর-হুরের শিকড় তুলে এনে তা পানের মধ্যে দিয়ে যাকে খাওয়াবে সেই সাধকের পিছনে ধাওয়া করবে।।


Ø পূষ্য নক্ষত্রে আপাং এর বীজ এনে কোন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশিয়ে যাকে খাওয়াবে সেই বশিভুত হবে।।


Ø ভোজ পত্রে লাল চন্দন দিয়ে শত্রুর নাম লিখে তা মধুতে ডুবিয়ে রাখলে, শত্রুও বন্ধুতে পরিনত হয়।।


Ø বাদামের গাছের পঞ্চাঙ্গ ( ফল, মুল, পাতা, ফুল, ডাল) এবং সাদা ঘুংঘচী ফল এক সাথে পিষে কপালে তিলক কাটলে যে বা যারা সাধকের দিকে তাকাবে সেই মোহীত হবে।।


Ø পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে কোনও বাগানে গিয়ে আনার (বেদানা) নিয়ে আসতে হবে, এবং সেই আনার কে ধুপ-দীপ দেখিয়ে নিজ ডান হাতে বেধে রাজ সভায় গেলেও সম্মানীত হবে।।


Ø ** মূথা ঘাসের শিকড় বিধি মত তুলে মুখের মধ্যে রেখে যার নাম উচ্চারন করবে, সেই বশিভূত হবে।।


Ø ভরনী নক্ষত্রে বা পূষ্য নক্ষত্রে চাঁপার কলি এতে হাতে বাঁধলে লোক বশ হয়।।


Ø মধু, খস ও চন্দন মিশিয়ে তা দিয়ে তিলক কেটে যে স্ত্রী বা পূরুষের কাধে হাত রাখেবে সেই বশিভুত হবে।।


Ø ভরনী নক্ষত্রে বা পূষ্য নক্ষত্রে সুদর্শন গাছের শিকড় এনে যদি বাহুতে বাধা যায় তবে সাধক সবাইকে বশ করার ক্ষমতা লাভ করে।।


Ø পূষ্য নক্ষত্রে নিয়ে আসা চামেলি বা চম্পা গাছের শিকড় তাবিজে ভরে ধারন করলে, শত্রুও মিত্রে পরিনত হয় যেখানে যাবে সেখানেই বিজয়ী হবে।।


Ø আপাং, ভৃংগরাজ, লাজবন্তী, সহদেবী সব একসাথে পিষে তিলক কাটলে সবাই সাধকের প্রতি মোহিত হবে।।


Ø সিন্দুর, সাদা বচ পানের রসে পিষে তিলক লাগালে সবাই মোহিত হবে।


Ø কাঁকড়া সিংঘী, চন্দন, বচ, কুট এই পাঁচ পদার্থ পিষে নিজের মুখে রেখে বস্ত্রকে ধূপ দেখালে সবাই মোহিত হবে।


Ø কলার রসে বরকী হরতাল এবং অশ্বগন্ধাকে গোরোচনে পিষে তিলক লাগালে সবাই মোহিত হবে।


Ø সহদেবীর সঙ্গে তুলসীর বীজ চূর্ন করে ঘুটে রবিবার দিন তিলক লাগালে সাধক সবাইকে মোহিত করতে পারবে।


Ø সর্ষে ও দেবদাল একত্র করে গুলি বানিয়ে নিজের মুখে রেখে বার্তালাপ করলে দ্বিতীয় ব্যক্তি বশীভূত হবে।


Ø পানে ডুমুরের শিকড় দিয়ে যাকে খাওয়াবে সে-ই বশীভূত হবে।


Ø যে নিজের কপালে গুলর-এর শিকড় ঘষে তিলক লাগাবে সে সবার প্রিয় পাত্র হবে।


Ø সহদেবী ছায়ায় শুকিয়ে এবার তার চূর্ন পানে দিয়ে খাওয়ালে যে খাবে সে বশীভূত হবে।


Ø মাদারে রসে ঘীগ্বারের রসে মিশিয়ে মুখে লেপলে অগ্নি স্তম্ভন করা যায়।


Ø ব্যাঙ্গের চর্বি, ঘীগ্বারের রস মিশিয়ে দেহে লেপলে অগ্নি স্তম্ভন হয়।


Ø সাদা ধুন্ধচীর রসে ব্রহ্মদন্ডীর শিকড় পিষে শরীরে লেপলে সবাই মোহিত হবে।


Ø গুলর ফুলের পলতে বানিয়ে রাতে সাদা মাখন দিয়ে তা জ্বালিয়ে কাজল তৈরী করে তিলক লাগালে জগৎ মোহিত হবে।


Ø সাদা দুর্বা ও বরকী হরতাল পিষে তিলক কাটলে জগৎ মোহিত হবে।




দুর্ভগ্য নাশনঃ


Ø রাতে সোবার আগে নিজের চৌকির নিচে (খাট/পালংক)মাথার দিকে একটি মাটির কলসি বা সরাতে কিছু পানি (জ্বল) রাখবে, ঢাকনা ছাড়াই। এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে ঐ কলসির জ্বল পাসের কোন পুকুরে বা ডোবাতে পূর্বদিকে মুখ করে ফেলে আসবে। প্রতিদিন এই কাজটি করলে সংসারে অযথা ঝগড়া, বিবাদ, বেইজ্জতী, রোগ, লাঞ্চনা ইত্যাদি খারাপ কিছু থেকে রেহাই পাবে। সংসারে মঙ্গল হবে।


Ø সন্তান সুখ প্রাপ্তিঃ


Ø পুরনো গুড় মাটির নিচে পূঁতে দিলে সন্তান সুখ প্রাপ্তি হয়। যদি সন্তানের কষ্ট হয় তবে উপরোক্ত উপায় করলে অনুকুল ফল পাবেন। যদি সন্তানের উপর কোন কু প্রভাব পড়ে তবে সন্তানের সুখের জন্য ভিখারিদের গুড় বিলিয়ে দিতে হবে এবং বাচ্চার জন্মের পর মিষ্টির বদলে নিমকি বিলাতে হবে।
লজ্জা নিবারকঃ


Ø যদি আপনি অনুভব করেন যে সময়ের পূর্বে কোন স্ত্রী/পূরুষের চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে, মানহানি, হওয়া কাজ হচ্ছে না, সুখের জায়গায় দুঃক্ষ এবং নিরাশা দেখা যাচ্ছে তবে পরিবারের প্রত্যেকের কাছ থেকে পয়সা নিয়ে তা গুরুধাম/এতিমখানায় দান করলে সব অনিষ্ট নাশ হবে।




আধ কপালী ব্যাথা দুরীকরণঃ


Ø সূর্যোদয়ের পূর্বে কোনও স্ত্রী/পূরুষ যদি চৌরাস্তায় গিয়ে দক্ষিণ দিকে মুখ করে ছোট গুড়ের টুকরো নিয়ে দাঁতে কেটে ঐখানেই ফেলে দিতে হবে। এর ফলে ভয়ংকর আধকপালী ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।




জ্বলকে দুগ্ধ করণঃ


Ø আকন্দের আঠা, বটের আঠা ও জজ্ঞডুমরের আঠা একত্রে একটি মাটির পাত্রে লেপন করিবে। পরে সেই পাত্রে জ্বল ঢালিবা মাত্র তাহা দুধের মত হইয়া যাইবে।




দশ মিনিটে দই তৈরীঃ


Ø ছাগলের দুধে ¾ ফোটা শেওড়া গাছের কস দিয়া দশ মিনিট রৌদ্রে রাখিয়া দিলে 10 মিনিটেই দই হইয়া যাইবে।




বৃষ্টি বন্ধ করণঃ


Ø হুক্কা পরিস্কার করিবার জন্য যে লোহার গজ বা ছাতার শিক ব্যবহার করা হয় তাহা লইয়া বৃষ্টি আসিবার পূর্বে নিঃশ্বাস টানিয়া লইয়া একদমে উক্ত লোহার শিক মাটিতে পুতিয়া ফেলিবে। এতে করে বৃষ্টি আসিতে পারিবে না।




বৃষ্টি বন্ধ করণঃ


Ø যে স্ত্রী লোকের প্রথম সন্তান পূত্র সন্তান জন্মেছে সেই পুত্র সন্তান যদি ঝড়/বৃষ্টি আসিবার পূর্বেই ঝাড়ু নিয়ে ঝড়ের বিপরিত মুখি ঝাট দিতে থাকে তবে ঝড় আসতে পারবে না। মানে পূর্ব দিক থেকে ঝড় আসলে পশ্চিম দিক হতে পূর্বদিকে ঝাড় দিতে হবে এমন ভাবে ঝাড় দিলে সে সময় যেটুকু যায়গায় ঝাড়ু দেওয়া শেষ হবে সেই স্থানে ঝড় ঢুকিবে না বা বৃষ্টির পানী পরিবে না। তার বাইরে ঝড় চলিবে।




তুফান থেকে মুক্তিঃ


মন্ত্রঃ শিব শঙ্কর নৈরাকার কর্তা মোরে কর পার


উদ্ধার হ্রীং হ্রীং ঠঃ ঠঃ।


Ø নৌকা পথে যাইতে যদি হটাৎ করে তুফান উঠে তবে, কিছু নদির পানী হাতে লইয়া উপরক্ত মন্ত্র তিনবার জপ করিবে এবং নদীর মধ্যে ফেলিয়া দিবে তাহলে তুফান, থামিয়া যাইবে।






Ø নৌকা পথে যাইতে যদি হটাৎ করে তুফান উঠে তবে, যদি নৌকাতে কোন রজশিলা কুমারী থাকে (অবিবাহীত যাকে কোন পুরুষ কামভাবে র্স্পশ্য করে নাই) যার মাসিক ধর্ম চলছে এবং পরনে কাপর গোজা আছে তবে তার কাছ থেকে সেই কাপর চেয়ে নিয়ে জাহাজ বা নৌকার মাস্তুলে বেধে দিলে সংগে সংগে তুফান এবং নৌকার পাগলামী থেমে যায়।




তাৎক্ষনিক কেশ উদগমনঃ


Ø কোন মুন্ডিত মস্তক ব্যক্তি (নাইড়া মাথার লোক) আঙ্কুলী তৈল দ্বারা মাথায় সুন্দর করে মালিশ করে তবে তাৎক্ষনিক কেশ উদগমন হয়।




ক্ষুরবিনা কেশচ্ছেদনঃ


Ø মনসার আঠা ও কনক ধুতুরার বীজ চূর্ন একত্রে সুবর্নের সহিত ভাবনা দিয়া এক খানা বস্ত্রখন্ড দ্বারা বেষ্টন করিয়া সেই বস্ত্র মাথায় চাপা দিয়া ধরিয়া কিছুক্ষণ পরে বস্ত্র সরাইলে দেখিবে মাথার সমস্ত কেশ উঠিয়া গিয়াছে।।




অর্শ্ব রোগের প্রতিকারঃ


Ø অশ্বথ গাছের উপর যে পরগাছা নিমগাছ হয় তাহা আনিয়া পিষিয়া খাইলে অর্শ্ব রোগ ভালো হয়।




চোখের ফুল ও বেদনা হইলেঃ


Ø জংলী শুকুরের দাঁত স্তন্যদুগ্ধে ঘসিয়া দিনে 5/6 বার লাগাইলে যে কোন প্রকার চোঁখের বেদনা ও ফোলা কমিয়া যায়।




অঞ্জনী বা চোখের ব্রনঃ


Ø আম পাতার শির বাহির করিলে যে রস বাহির হয় তাহা দিনে ¾ বার চোখের উপর ব্রনে লাগাইলে ব্রন ভালো হয়।




অঞ্জনী বা চোখের ব্রনঃ


Ø রসুনের রস প্রত্যহ 3 বার তিন দিন লাগাইলে যে কোন প্রকার চোখের অঞ্জনী ভালো হয়।




অঞ্জনী বা চোখের ব্রনঃ


Ø ডান হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলী বাম হাতের তালুতে শুকনা ভাবেই জোরে জোরে ঘসিলে যখন গরম অনুভব করিবে তখন আঙ্গুলটি চোখের অঞ্জণীতে শেক দিবে তাহলে দু দিনেই অঞ্জনী ভালো হইবে।






Ø দোমছা বা হড়কো অথাৎ যে সকল মেয়ে লোক স্বামীকে ভয় পায় স্বামীর কাছে শয়ন করতে চায় না তাদের জন্যঃ


Ø জুতার শুকতলা এক টুকরা, উচ্ছিষ্ট কলা পাতার আগা এক টুকরা, ধোপার পাটের হাতকুড়ো একটু, বাজার ঝাটান খেঙ্গরা এক টুকরা। এই সব দ্রব্য একটি মাদুলিতে ভড়ে স্ত্রীর গলায় ধারন করিলে তার এই রোগ বা সমস্য আর থাকে না।






অনিয়মীত ঋতু স্রাবঃ


Ø তিলের শিকড় রাতে ভিজাইয়া রাখিয়া সেই ভিজানো জল, সকাল ও বিকাল দৈনিক ২ বার পান করিলে ঋতু স্বাভাবিক হয়।
ফলে পোকা না লাগার উপায়ঃ


Ø গাছের ডাল ভাঙ্গিয়া গঙ্গায় বা পদ্মায় ফেলিয়া দিলে ফলে পোকা ধরে না।।
দুই শত্রুর মধ্যে ঝগড়া বাধানোর তদবীরঃ


Ø কাল কুকুর এবং কাল বিড়ালের দাঁত মিশ্রিত করে এক টুকরা কাপড় দ্বারা নয়টি পুটলি বেঁধে যে গৃহে লুকায়ে রাখবে, সে গৃহে ঐ পুটলি যতদিন থাকবে ততদিন সেই গৃহে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকবে কখনও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। এবং এই বিবাদ থেকে ভাই/বোন, স্বামী/স্ত্রীও রেহাই পাবে ন।
ছোট শিশুর বা পশুর মুখদোষ দুর করার উপায়ঃ


Ø কাকের ঠোঁট শুকায়ে তাবীজ বানিয়ে তা শিশুর গলায় পড়িয়ে দিলে যাবতিয় মুখদোষ হতে দুরে থাকবে।






Ø সূর্যোদয়ের আগে কোনও স্ত্রী-পুরুষ চৌরাস্তায় গিয়ে ছোট গুড়ের টুকরো দাঁতে কেটে সেখানেই ফেললে সে সব পীড়ামুক্ত হয়। গুড় দাঁতে কাটার সময় তার মুখ দক্ষিণ দিকে হওয়া চাই।


Ø রাতে শোবার সময় যে কেউ ৭ বার মুনিরাজ আস্তিকের নাম জপ ও নমস্কার করে তার সাপের কামরের ভয় থাকে না।

Ø যদি কারও মৃগী রোগ থাকে তবে গাধার সামনের ডান পায়ের নখ নিয়ে আংটিতে ভরে নিজের আঙ্গুলে ধারন করলে রোগমুক্তি হয়।..

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

বশীকরণ কি .কেন .কখন .কাকে কোথায় ও কিবাবে করবেন.


বশীকরণ কি? কেন, কখন, কাকে, কোথায় ও কিভাবে করবেন?

আমাদের আজকের বিষয়টি তান্ত্রিকতার সবথেকে জনপ্রিয়, অত্যাধিক ব্যবহৃত, বিশ্বের সকল স্থানের সকল সময়ের শ্রেষ্ট চাহিদা সম্পন্য তদবীর বা তন্ত্র যার নাম বাংলায় “বশীকরণ/বশিকরন”। আজ আমরা জানবো বশীকরণ কি ? কেন, কাকে, কখন, কিভাবে বশীকরণ করা যায় বা করবো। এবং এ বিষয়ের উপর সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় পর্যায়ক্রমে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
বশীকরন-একটি তান্ত্রিক বা আধ্যাত্মিক প্রকৃয়া যা দ্বারা একজন মানুষের স্বাভাবিক বিরুপ মনকে মন্ত্র, তন্ত্র, যন্ত্র, দোওয়া, তাবিজ, টোনা, টোটকা ইত্যাদি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজের প্রতি আকৃষ্ট বা আয়ত্বে আনা যায়। মনে রাখতে হবে- মানুষের মন কোন যন্ত্র চলিত ইঞ্জিন নয়, যে এর কোন একটি পার্টস পরিবর্তন করে দিলেন আর সাথে সাথে আপনার পিছু ধাওয়া করলো। তবে হ্যা এটিও সত্য যে বর্তমান হিপনোটাইজ, মেসমেরিজম, ত্রাটক ইত্যাদির দ্বারা সাময়ীক ভাবে একজন মানুষের সম্পূর্ণ জ্ঞান, বোধ, বুদ্ধি হরন করে তাকে দিয়ে তাৎক্ষণিক কোন কার্য সম্পাদন করানো যায়। (এ বিষয় বিস্তারিত প্রশিক্ষণ ও আলোচনা আমাদের অন্য একটি অধ্যায়ে করা হয়েছে) তবে সেটি বশীকরণ নয়। বশীকরণ করতে অবশ্যই সময়ের প্রয়োজন সময় লাগবেই, কারন এটি তো অন্য কিছু নয়, মানুষ্য মন, যে মনের জন্যই আজ সে আঠারো হাজার মাখলুখের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার, এটিকে পরিবর্তন হতে কিছু সময় নেওয়াটাই স্বাভাবিক, না নেওয়াটা ভন্ডামী। তদবীরের প্রখরতার উপর নির্ভর করে ৭-১৮০ দিন কিংবা তার বেশি সময়ও লাগতে দেখা গেছে। একটি মানুষকে বশীকরণ করার তদবীর যদি আপনি একজন সৎ তান্ত্রিক দ্বারা করিয়ে থাকেন তবে আজ বা কাল বা একটি সময় সেই ব্যক্তি বশীকরণ হবেই হবে, এটি নিশ্চিত ধ্রব সত্য-কারন বিজ্ঞান বলে প্রতিটি কাজের একটি ফলাফল থাকতেই হবে, সেটা যেমন’ই হোক।
কেন একজনকে বশীকরণ করবো বা করা হয়, এর প্রয়োজনীয়তা কি? মানুষ সামাজিক জীব, সমাজে বাস করতে তাকে সকলের সাথে মিশতে হয়, প্রয়োজনের তাগিদেই অন্যের সাথে সখ্যতা তৈরী করতে হয়। আবার হৃদয় ঘটিত ব্যপার তো রয়েছেই। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মানুষের নিজ স্বার্থের প্রয়োজনে যখন একজন মানুষকে অনেক বেশি প্রয়োজন পরে আর সেই ব্যক্তিটি তার আহ্বানে সারা না দেয় তখনি বশীকরণ করার চিন্তা বা প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। শুধু তাই নয়, স্বামী স্ত্রীর সর্ম্পক্যের মাঝেও তৃতীয় পক্ষের অনুপ্রবেশের কারনে বা মন মালিন্যের কারনে বিভেদ সৃষ্টি হয়। আপনি বিবাহিত অথচ অন্য আরেকটি মেয়েকে বা অন্যের স্ত্রীকে হটাৎ পছন্দ হয়ে গেলো, আপনার স্বামী হয়তো আপনার শারীরিক, মানুষিক বৈষয়িক কোন চাহিদা মেটাতে অপারগ এমতাবস্থায় আপনি অন্যের প্রতি আকর্ষিত হয়ে পরলেন এমনি হাজারো পরকীয়া ঠেকাতে, পরকীয়া করতে। আপনার সন্তান আপনার অবাধ্য, আপনার পিতা/মাতা আপনার অন্য কোন ভাই/বোন/ বোন জামাইয়ের প্রতি আসক্ত আপনাকে পাত্ত্বা দেয় না। আপনার ভাই বোনের সাথে আপনার মিল হচ্ছে না। আপনি হটাৎ কোথাও বেড়াতে গিয়ে কোন রূপসী যুবতী/যুবকের প্রতি আসক্ত, হতে পারে সে নেহায়েৎ গরিব ঘরের যে কারনে আপনার সাথে সর্ম্পক্য করার সাহস পাচ্ছে না। এমনও হয় সে উচ্চ বংশের আপনাকে পাত্তা দিচ্ছে না। সে অন্য পুরুষ বা মেয়েতে আসক্ত, তবুও আপনি তাকে পেতে চাইছেন। আপনার অফিসে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আপনার বস আপনার  প্রতি সহানুভুতিশীল নয়, অন্যের প্রমোশন হচ্ছে আপনার হচ্ছে না, আপনার সহকর্মী যে আপনার ফেভারে থাকলে আপনার সুবিধা হতো কিন্তু সে আপনার প্রতি বিরুপ। আপনি রাজনীতি করেন কিন্তু আপনার প্রতি আপনার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের তেমন একটা সু নজর নেই, আপনি আপনার যোগ্য স্থান পাচ্ছেন না। আপনি কোন মেয়ে বা ছেলে কে জান প্রাণ দিয়ে চাইছেন কিন্তু তাকে কোন ভাবেই বোঝাতে বা বলতে পারছেন না। আপনি এমন একজনকে পছন্দ করেন যে কি না সর্ম্পকে আপনার সামজস্যপূর্ন নয়, যে সর্ম্পক্যটি অসামাজীক, তবুও আপনি চাইছেন, সে আপনার ধর্মের বা গোত্রের না, যা সমাজ বিরোধী যে কারনে বিপরীত ব্যক্তিটি আপনার আহ্বানে সারা দিচ্ছে না, আপনি যাকে চাইছেন সে আপনার বয়েসে অনেক বড়, ছোট, গরিব, বড়লোক, ভিন্ন ধর্মের, দেখতে সুন্দর, কুৎসিত, সামাজীক স্ট্যাটাস অনেক উঁচু, নিচু ইত্যাদি হাজারো ভিন্নতার কারনে বিপরিত ব্যক্তিটি আপনার প্রতি বিরুপ, বিতৃষ্ণ, সাড়া দিচ্ছে না সে সকল ক্ষেত্রে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ বশীকরণ। এর মাধ্যমে নিজের ইচ্ছের সাথে তার ইচ্ছের সংমিশ্রন ঘটানো হয়, বা ঘটাতে বাধ্য করা হয়। এই বশীকরণ যে সকল সময় মঙ্গলের জন্যই করা হয়ে থাকে তা কিন্তু নয় অনেক সময় দেখা যায় নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য, অসৎ উদ্দেশ্য চারিতার্থ করার জন্য, অসামাজিক কার্যকলাপের জন্যেও কিছু অসাধু ব্যক্তি করে থাকে। যা সকল সময় সমাজের জন্য হিতকর নাও হতে পারে, আবার কোন ক্ষেত্রে একজনের জীবন বাচানোর তাগিদেও বশীকরণ জরুরী হয়ে পরে। যাই হোক এ সকল ক্ষেত্রেই আমরা বশীকরণের প্রয়োগ দেখতে পাই।
এখানে আমরা জানলাম কেন এবং কাকে বশীকরণ করার প্রয়োজন হয় এবার আলোচনা করবো কখন কি ভাবে করা হয় বা হবে। অনাদীকাল হতেই এই কাজটি সমাজের তান্ত্রিক, ফকির, বেদে, পীর, ওঝা, হুজুর, মাওলানা, আধ্যাত্মিক সিদ্ধ পুরুষ এই সকল সম্প্রদায়ের লোকেরাই করে থাকে। কারন এই কাজগুলো আমরা সাধারন মানুষ জানলেও তা করে তেমন ফল পাওয়া যায় না। এই কাজগুলোতে সাধারনত গ্রামীন সমাজ টোনা, টোটকা, জড়ি, বুটি, তাবিজ, কবজ ইত্যাদি ব্যবহার করে আসছে।
আমাদের সর্বসাধারনের আজ এটি জানা অত্যান্ত জরুরী যে কি কি দ্বারা বশীকরণ করা হয়ে থাকে- বর্তমান সময়েও দেখা গেছে তাবিজ, কবজ, যন্ত্র সাধারন ভাবে গাছের উপর টাঙ্গিয়ে, গাছের গোড়ায় পুঁতে, কিছু খাওয়ানো, শরীরে র্স্পশ্য করে, পায়ের নিচে, বিছানায় মাথার নিচে রেখে, ঘরে রেখে, বাড়ীতে কোথাও টাঙ্গিয়ে, নিজের সাথে গলায় বা হাতে ব্যবহার করে, শ্মশানে/কবরস্থানে, বহমান নদীতে, জঙ্গলে পুঁতে, বিভিন্ন প্রাণীর অংশ বিশেষ ব্যবহার করে, শরীরের ব্যবহৃত কাপড়, চুল, নখ, গাত্র ময়লা ইত্যাদি সংগ্রহ করে, ছবি, নাম, জন্ম তারিখ, পিতা মাতার নাম দিয়ে। চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থেকে, কথার মাধ্যমে তান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিপরীত লিঙ্গকে বশীকরণ করা হয়, আর সাধারন ভাবে কোনও ব্যক্তি তার রুপ, গুন, অর্থ সম্পদ ইত্যাদি দিয়েও অন্যকে প্রভাবিত করে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে একটি প্রতারক ভন্ড তান্ত্রিক সম্প্রদায় সর্বসাধারনের মাঝে একটি কথা বেশ জোড়ালো ভাবেই ছড়িয়েছে যে নানা রকম আসন, চালান দ্বারা, জ্বীন, পরী, কালী সাধনা দ্বারা অন্যকে বশীকরণ করে দেয়। মনে রাখবেন এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভুয়া একটি কথা, সাধারনের মস্তিষ্কে এটি বর্তমানে একটি ভাইরাসের মতই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এ ভাবে অন্যকে বশীকরণ করা যায় বা হয়।
দেখুন এই সাধনাগুলো (জ্বীন, পরী, কালী বা এ ধরনের শক্তি সাধনা) মূলত যারা বা যেনারা করে থাকে তা একান্তই ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য নিয়ে। কখনই এ সকল শক্তি সাধক ব্যক্তি আপনাকে এই শক্তির দ্বারা আপনার আকাঙ্খীত ব্যক্তিকে বশীকরন করানো কাজ করবে না বা করানো সম্ভব নয়। কারন যে শক্তি আপনার নিয়ন্ত্রনাধিন নয়, যে শক্তি সাধন করতে আপনাকে সময় শ্রম অর্থ ব্যয় করে তার অনুগ্রহ লাভ করতে হয়, সেই শক্তিকে কোন ভাবে কি ভৃত্যের কাজ করানো সম্ভব??? হ্যা এ কথা সত্য যে আপনি যদি এমন কোন শক্তির সাধনা করেন, যদি আপনি এ শক্তির নিয়ন্ত্রক হয়ে থাকেন তবে তার মাধ্যমে আপনি আপনার প্রয়োজনানুসারে কোন স্বার্থ হাসিল, সম্পদ লাভ, কাউকে পছন্দ করলে তাকে নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি করলেও করতে পারেন। কিন্তু তাকে আপনি কোন ভাবেই দাস বানাতে পারবেন না। অথচ আমাদের সমাজে এক শ্রেনীর অসাধু তান্ত্রিক নামধারী সর্বসাধারনের আবেগ অনুভুতী নিয়ে প্রতারনার ফাদ পেতে এটি বোঝায় যে তার নিকট জ্বীন, পরী, কালী ইত্যাদি রয়েছে এবং সে এই শক্তির দ্বারা নিমিশেই (কয়েক ঘন্টা বা কয়েকদিনেই আপনার আকাঙ্খীত ব্যক্তিকে আপনার বশে এনে দিবে)। একটি কথা মনে রাখবেন বর্তমান যুগে যে সকল তান্ত্রিকতা করা হয় বিশেষ করে তাবিজ, কবচ/কবজ, যন্ত্র ইত্যাদি করতেও একজন মানুষকে যতটুকু ন্যায়, নিতিবান, সৎ সিদ্ধ পুরুষ হতে হয়, আত্মিক সংগতি, আধ্যাত্মিকতার প্রয়োজন পড়ে বর্তমান সমাজে তার বড়ই অভাব। আমাদের গবেষনায় ও বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে বড় বড় সাইন বোর্ড ধারী অসংখ্য তান্ত্রিক নামধারী ব্যক্তি যারা বোম্বায়, দিল্লী, মাদ্রাজ, কলকাতা, ঢাকা, চট্টগ্রামের মত বড় বড় শহরে স্থাপনা গেড়ে বসে রয়েছে তেনাদের ৯৮% তান্ত্রিক’ই ফেইক। অনলাইন জগতে ইদানিং কালে অসংখ্য তান্ত্রিক সোস্যাল মিডিয়ায়, ওয়েব সাইড দিয়ে বসে রয়েছে যাদের মধ্যে অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের ২-১ টি ছাড়া সকল সাইড ভুয়া ও ফেইক, যার অধিকাংশ সাইড অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক কিছু ছেলেদের দ্বারা কপি পেষ্ট তৈরী নতুবা প্রতারনার ফাঁদ। এ বিষয় কোন সাহায্য নিতে বা তদবীর করানোর পূর্বে অবশ্যই সাইডগুলোর জন্ম হিষ্ট্রি দেখে তদবীর নেওয়ার জন্য অনুরোধ রইলো। নতুবা আপনার মূল্যবান সময়, শ্রম, অর্থ, চোখের জ্ল সকল কিছুই বৃথাই নষ্ট হবে।
সাধারন ভাবে দেখা গেছে বর্তমান যুগে পানি পড়া, মিষ্টি পড়া, ধূলা পড়া, পান পড়া, ফুল পড়া ইত্যাদি সহ যে কোন ধরনের তাবিজ, কবজ, গাছে টাঙ্গিয়ে, শ্মশানে বা কবরে পুতে, নদীতে ফেলে তার ফল পেয়েছে এমন মানুষ খুজে পাওয়া আর ডায়নোসর খুজে পাওয়া সমান। তবে এখনো যে এ সকল তদবীর হয় না সেটি বলা হচ্ছে না, বর্তমান সময়ে আমরা যদি মিডিয়ায় নজর রাখি তবে হয়তো আমরা দেখবো অনেক অনেক তান্ত্রিকতা সচল রয়েছে তবে তার প্রয়োগ বিধি পরিবর্তীত হয়েছে। ইউটিউব ভিডিওতে, এ্যন্ড্রোয়েড এ্যপে এমন হাজারো বশীকরণ তদবীরের দেখা মেলে কিন্তু বাস্তবিকে এ সকল কিছুই ভূয়া বা ফেইক, এগুলো দেখে বা এর পিছনে সময় শ্রম অর্থ নষ্ট করা সম্পূর্ণই বৃথা।
তাহলে কি ভাবে আপনি কাউকে বশীকরণ করবেন ? প্রথমত আপনাকে একটি কথাই পুনরায় বলবো আর তা হচ্ছে আপনার উর্বর মস্তিষ্ক্য ব্যবহার করুন, নিজের চিন্তার উন্নতি ঘটান, দৃষ্টি শক্তির প্রসার ঘটান তবে হয়তো এ সকলের মধ্যে সত্যিকারের তান্ত্রিকদের খোজ আপনি পেয়ে যাবেন। যার দ্বারা আপনার মনোরথ পূর্ণ হবে। যে আপনার মনের মানুষটিকে আপনার মনের সাথে মিলিয়ে দিবে। কখনই এই একটি বিষয় তারাহুড়ো করবেন না। মনে রাখা জরুরী তান্ত্রিক বিদ্যা বা কাজ গুরুমুখি, গোপন বিদ্যা। বিধায় আপনি কোন তান্ত্রিকের নিকট যাচ্ছেন আপনার বাবা, মাকে, বন্ধু বান্ধব বা আত্মিয় পরিজনকে সাথে নিয়ে তাদের বলে যাচ্ছেন তো আপনার কাজটি হবে না। হওয়ার সম্ভবনা নেই, আধ্যাত্মিক কাজ বিশেষ করে বশীকরণের ক্ষেত্রে আপনি যাকে বশীকরণ করছেন অদুর ভবিষ্যতে তাকেও আপনি এ ব্যপারে বলতে পারবেন না। এই কাজগুলো একাই করতে হয়। যদি স্রষ্টাকে বিশ্বাস করেন তবে একটি বিষয় উপলব্ধি আছে নিশ্চয়, কাউকে বলে যদি আপনি স্রষ্টার নিকট কিছু চান তবে তা কখনই পূরণ হবে না, আপনাকে তার কাছে চাইতে হবে গোপনে, সকলের অগচরে, একান্তই নিজেস্ব ভাবে অন্তরের সমস্ত আকুতি দিয়ে। তান্ত্রিক কাজ করানোর পূর্বে যার নিকট কাজটি করাচ্ছেন তার উপর আপনার পূর্ণ বিশ্বাস আস্থা থাকাটাও অত্যন্ত জরুরী। কেননা বিশ্বাসের নুণ্যতম ঘাটতিও আপনাকে সফল হওয়া হতে পিছিয়ে দেবে।
বর্তমান সময়ে কিছু আধুনিক রীতিতে তান্ত্রিক নিয়ম প্রয়োগ হচ্ছে, যার সাথে রয়েছে হিপনোটাইজম বা ত্রাটকের কিছু অংশ্য, এতে দূরে থেকে কিংবা কাছে থেকে যে কোনও ভাবেই বিপরীত লিঙ্গকে খুব সহজেই কনভেন্স করা যাচ্ছে। তবে আপনার এও যানা উচিৎ সকলের ক্ষেত্রেই সকল প্রয়োগ সমান নয়, বিশেষ করে আপনি যাকে বশীকরণ বা কনভেন্স করবেন সে কোন শ্রেনীর ব্যক্তি বা নারী সেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারন কখনই একটি সাধারন অল্পশিক্ষিত, সকলের সাথে সমান ভাবে মেশা নারীকে বশীকরন করা আর একটি শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত ঘরের নারীকে বশীকরণ করা এক কথা বা একই কাজ নয়, একজন সাধারন পুরুষকে বশীকরণ করতে যে শক্তি সময় শ্রম ব্যয় হয় একজন জনপ্রতিনিধিকে বশীকরণ করতে তার চাইতে অনেক বেশি সময় শ্রম শক্তির ব্যয় হবে, আর এটাই স্বাভাবিক। পূর্বের ন্যায় বর্তমান সময়ে ১০-২০ টাকা হাদিয়ায় হুজুরদের তাবিজে কাউকে বশ করা সম্ভব হয় না। কেউ করেও দিবে না। এ বিষয়গুলো মানতে হবে। আপনি যাকে আপনার জীবনের চাইতে বেশি চাইছেন তার ভালোবাসার নিকট অবশ্যই আপনার অর্থ ও শ্রম মুখ্য হওয়া উচিৎ হবে বলেও আমরা মনে করি না। একজন রাজনীতিবীদ নির্বাচনে জয়লাভ হতে জনগন ও জনপ্রতিনিধিদের কনভেন্স করার প্রয়োজন পরে এমন স্থানে যদি সে মনে করে একটি মাজারে ১০০-২০০ টাকা হাদিয়া দিয়ে একটি তেলেসমে কারামতি মিশরীয় বশীকরণ কবজ বা আজমির/ফুরফুরা শরীফের নামী কোন তাবিজ হাতে পড়লেই কুল্লু খালাসুন তবে তাকে বুদ্ধিমান বলা উচিৎ হবে না।
আমরা সর্বসাধরণের উদ্দেশ্যে বলবো বশীকরণ কখনই সকলের জন্যই একই রিতি নয়, প্রয়োজনের তাগিদে একজনকে বা একের অধিকজনকে একই সংগে বশীকরণ করার প্রয়োজন পরতে পারে, সকল ক্ষেত্রেই একই তন্ত্র বা বিধি কার্যকারি নয়, একজন পুরুষ ও একজন নারীকে বশীকরণের তদবীর কখনই একই নয়। একই সংঙ্গে ঘুরে বেরানো দুই বান্ধবিকে কনভেন্স করতে একই তদবীর কাজ হবে এমন সম্ভবনা শুন্য। বশীকরণ বিদ্যা মিথ্যা নয়, নতুবা আপনার আমার পূর্বপুরুষগণ সকলেই মিথ্যা প্রমানিত হবে। তবে পূর্বে যা যত সহজ ছিলো এখন তত সহজ নয়, পূর্বে যা যে ভাবে মিলতো এখন তা সেভাবে মিলে না, এ সকল কিছু আপনাকে মানতে হবে জানতে হবে।  আপনারা যারা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল নন, তেনারা আমাদের ওয়েবে প্রদত্ত স্বয়ংসিদ্ধ কিছু টোটকা রয়েছে সেগুলো সঠিক নিয়মে করে দেখতে পারেন প্রয়োজনে আমাদের সাহায্য নিয়ে করতে পারেন, কারন আপনি যখন নিজের কাজ নিজে করবেন সেখানে থাকবে আপনার গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, যার জন্য করছেন তাকে পাওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছে, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, বিণয় বিধায় কাজটি হলেও হতে পারে এবং হওয়ার সম্ভবনাই ৯০%, যেনারা সময়, শ্রম,  প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট কালেক্ট করতে অপারগ, ধর্মিয় আচার বিধি নিশেধ থেকে সর্বদা দুরে রয়েছেন তারা নিজেরা করে তেমন ফল পবেন না। বিধায় আমাদের স্বরনাপন্ন হতে পারেন নতুবা অবশ্যই ভালো ভাবে দেখে শুনে কোন সৎ যোগ্য তান্ত্রিকের নিকট গিয়ে মনের আকুতি জানাবেন, তার যথাযথ সন্মানী প্রদান করবেন, তাহলে সে চাহে তো আপনার কাজটি অনায়েসে করে দিবে। আমরা চাইনা কেউ সারাটি জীবন তার প্রিয় হারানো বেদনা বুকে বয়ে নিয়ে বেড়াক, বা কোনও প্রতারকের ক্ষপ্পরে পরে সর্বশান্ত হয়ে আজীবন তান্ত্রিকতা ভুয়া, ভন্ডামী এসব কাজ হয় না, সব তান্ত্রিক ফেইক এসব বলে বেরাক। আমরা এ কারনে আপনাদের সাধ্য ও আকাঙ্খার বিচারে প্রয়োজনে সম্পূর্ণ ফ্রিতেও কাজ করে দিতে প্রস্তুত তবে মনের আগ্রহ বা সন্দেহ মেটাতে কাজ করতে প্রস্তুত নই।
আপনারা আমাদের এই বশীকরণ বিষয়ক পোষ্টটিতে কিঞ্চিৎ উপকৃত হলে আমাদের শ্রম সার্থক হবে বলে মনে করছি। সকলের মঙ্গল কামনা রইলো।  যে কোন বশীকরন করার জনো কল করুন. 01757786808

বশীকরন কাজল প্রয়োগ

পুরুষ বশীকরণে কাজলের প্রয়োগঃ
ভালোবাসা কাজল বা বশীকরণের কাজল মূলত কাউকে বশীকরণের জন্যই ব্যবহৃত হয়। এই কাজল সাধারণ না এটি অতি বিশিষ্ট বা প্রভাবশালী হয়। এই কাজলকে শুধুমাত্র বশীকণে বা সম্মোহনের জন্যই ব্যবহার করা হয়। সামান্য কারণের জন্য এর প্রয়োগ করা নিষেধ। এটি বানাবার নিয়মাবলী আমরা আপনাদের জানাবো। তবে একটি কথা মাথায় রাখা জরুরী যে গুরু ছাড়া এ সকল কাজ করে তেমন কোন ফল আশা করা অনর্থক।
সর্বপ্রথম কোন জায়গা থেকে খুঁজে এমন একটি বিড়াল আনতে হবে যার সারা দেহ কালো লোমে ঢাকা। এরুপ বিড়াল পেলে তার গোঁফ কেটে নিজের কাছে রাখতে হবে। এবার এই চুলগুলি তুলো সহ পাকিয়ে পলিতা তৈরী করে তা ঘি এর প্রদীপে দিতে হবে। মধ্যরাতের পরে ঐ প্রদীপকে একটি নিরিবিলি ঘরে নিয়ে গিয়ে নিজ প্রেমিক বা প্রেমিকার ঘরের দিকে মুখ করে প্রদীপটা রাখতে হবে এবং প্রদীপের পলিতায় আগুন দিতে হবে। এই প্রদীপের উপর কোনও বড় বা কাঁচ রেখে কাজল তৈরী করতে হবে। যতক্ষণ প্রদীপ জ্বলবে ততক্ষণ নিচের মন্ত্রটি জপ করতে থাকবে।
মন্ত্রঃ “কালী কালী মহাকালী, কালী চলে আঁধীরাত, কালী বসে আঁধীরাত, কালী লাবে মহাকালী উসে মেরী মুহব্বত মেঁ দীবানা বানায়ে।”
এই বিধিমেনে কাজলটি তৈরী করে নিজের চোখে লাগিয়ে আপনি যাকে ভালোবাসেন তার নিকট গেলে সে আপনাকে দেখলেই আপনার প্রতি তার ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। মন্ত গুরু . আজিজ রহমান . খুলনা . খালিস পুর বাজার ফোন  01757786808

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

পরী সাধনা


পরী সাধনা

 অর্থ ধন-সম্পদ এবং প্রভাবশালী হওয়ার উপায়ঃ

সর্বাগ্যে আমাদের জানা প্রয়োজন পরী সাধনা কে করবে? কেন করবে? জগতে যতগুলো শক্তি সাধনা রয়েছে তার প্রতিটির’ই রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য। আমরা আমাদের নিজ ব্যক্তি সাধনা সিদ্ধির জন্যই বিভিন্ন সাধনা করে থাকি। অনেক সাধনা রয়েছে অর্থ প্রাপ্তির জন্য, অনেক সাধনা সম্নান প্রতিপত্তির জন্য, অনেক সাধনা সাংসারিক জীবনে সুখ প্রাপ্তির জন্য। তেমনি পরী সাধনার রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য। অনেক মেয়ে বা নারী আমাদের নিকট পরী সাধনা করার জন্য অভিপ্রায় ব্যক্ত করে থাকেন। কিন্তু বাস্তবিকে পরী সাধনা কোন মেয়েলি সাধনা নয়, কোন নারী এই সাধনায় বিন্দু পরিমান উপকৃত হবে বলে মনেও হয় না। পরী সাধনা মূলত পুরুষদের জন্য একটি সাধনা, এই সাধনার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে অবিবাহীত পুরুষের আত্মিক ও যৌবিক চাহিদা পূর্ণ করা ও সেই সাথে আর্থিক অনটন থেকে মুক্তি, তবে কেউ যদি শুধু আর্থিক উন্নতীর জন্য এই সাধনা করেন তবেও সে নিশ্চিত বিফল হবে। কারন এখানে বিষয়টি এমন যে আপনি একটি বিত্তশালী মেয়েকে বিয়ে করলেন এতে করে আপনার যেমন একটি নারী সঙ্গ হলো সেই সাথে আপনার আর্থিক সহযোগিতা হলো কিন্তু যদি মেয়েটিকে বিয়ে না করেন তবে সে আপনাকে ভিক্ষাও দিবে কি না সেটি অনিশ্চিত!!! তেমনি পরী সাধনার ক্ষেত্রটিও এমনি। তবে এ যাবৎ পর্যন্ত যতগুলো শক্তি সাধনার সাথে আমরা পরিচিত হয়েছি, সাধনা বিধি দেখেছি, ক্লাইন্টদের সফলতার হার নিরিক্ষণ করেছি তাতে পরী সাধনার মত সহজ সরল কোন সাধনা জগতে নেই, স্বল্প সময়ের কম পরিশ্রমে এর চাইতে ভালো কোন সাধনাই জগতে নেই। তবে এখানে একটাই জটিল শর্ত হচ্ছে যে কোনও লুচ্চা প্রকৃতির, নারী দেহ লোভি, বিবাহিত পুরুষের দ্বারাও এ সাধনা সম্ভব নয়। এই সাধনায় ভয় ভিতির বা কোন শারীরিক ক্ষতির আশংকা নেই। আপনি যদি পরবর্তীতে বিয়ে করতে চান তবেও সমস্যা নেই তবে আপনি বিয়ে করলে বা অন্য নারীতে আশক্ত হলে এই সাধনা আপনা হতেই বিলিন হয়ে যাবে।
আমরা এ যাবৎকাল পর্যন্ত পরী সাধনার জন্য সর্বমোট তিনটি প্রকৃয়া বা নিয়ম সংগ্রহ করতে পেরেছি যার মধ্যে এশিয়া মহাদেশের পরিমন্ডলে দুটি নিয়মে সাধনাটি খুব সহজেই সফল হয়। আমরা আপনাদের সাথে পর্যায়ক্রমে এ দুটি নিয়ম নিয়েই আলোচনা করবো। তবে পূরনো কথাটি আবারও নুতন করে বলছি (কখনোই আপনি সিদ্ধগুরুর স্বার্নিধ্য ছাড়া একা কোন সাধনা করতে যাবেন না।)
মন্ত্রঃ ”বিসমিল্লাহী রাহিমান রাব্বে ইন্নি মঙ্গল ফান্তসির”
সাধনা বিধিঃ প্রথমেই গুরুর আর্শিবাদ প্রাপ্ত হয়ে তার অনুমতি সাপেক্ষে একটি শুভ সময় মন্ত্রটি নির্দিষ্ট সংখক বার জপ করে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এবার আপনাকে এমন একটি গৃহ নির্বাচন করবেন যে ঘরে কোন মহিলার যাতায়াত নেই বা কোন নারী সেখানে প্রয়োজনেও যায় না। এবার আপনাকে আপনার পোশাক নির্বাচন করতে হবে, পরী সাধনার জন্য রেশমী বা পশমী কাপড়’ই উপযুক্ত, আপনি খুব রঙ্গিন অর্থাৎ ঝকমকে নতুন পোষাক পরিধান করবেন সেই সাথে মাথায় পাগড়ি বা বিয়ের সময় বর যে ধরনের টোপড় পরে তেমন নতুন সুন্দর টোপড় পড়তে পারেন। এবার চন্দ্রমাসের প্রথম রাত্রি হতেই ( সেদিন যদি বৃহষ্পতিবার হয় তবেই ভালো) একটি পাঠ বা মোটা কাপড়ের তৈরী সবুজ রঙ্গের আসন পেতে বসবেন। সামনে বড় মাপের তিনটি তিন রঙ্গা মোমবাতি জ্বালাবেন, ঘরে সুগন্ধি ছড়িয়ে দিবেন, নিজ শরীরেও সুগন্ধি ব্যবহার করবেন, প্রয়োজনে ঘরে কিছু টাটকা সুগন্ধি ফুলের ব্যবস্থা করে রাখতে পারেন, এবার একটি তামা বা পিতলের থালায় আমাদের নিকট হতে প্রাপ্ত নকশাটি কস্তুরি, মেশক, গোলাপ জ্বল দিয়ে সুন্দর করে আকঁবেন। সেটি আপনার সামনে স্থাপন করবেন। সমস্ত কাজগুলো রাত্রি ১২ টার পর করবেন। এবার খুব সুন্দর করে যে কোনও দরুদ শরীফ ১০০ বার তেলাওয়াত করে উক্ত মন্ত্রটি এমন ভাবে পড়বেন যেন আপনি নিজ কানে শুনতে পান। আপনার মন্ত্র জপ অন্তত্য ৩ ঘন্টা পর্যন্ত চলবে এরপর আপনি সেই অবস্থায় মোমবাতি নিভিয়ে সেই আসনেই ঘুমিয়ে পড়বেন। এভাবে পর পর কয়েকদিন করলেই ( সাধারনত ৩-৭ দিন সময় লাগে) পরী এসে আপনার সামনে হাজির হবে। সে আসলে প্রথমেই আপনাকে তার নাম জানতে হবে তার পরীবার সর্ম্পকে বিস্তারিত জানবে। তার থাকার জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে রাখবে। কারন সে আপনার সাথে সর্ম্প্যে করলে তার জামায়াত বা তার পরীবারের কাছে ফিরে যেতে পারবে না। এ জন্য আপনাকে আপনার বাড়ীতে বা বাস্থানের এমন একটি স্থান নির্বাচন করতে হবে যেখানে দিনের বেলাতেও অন্ধকারচ্ছন্য থাকে, সুর্যের আলো পৌছায় না। এবার তাকে আহ্বানের নিয়মটি যেনে নিবেন, নিয়ে আপনি তাকে আপনার মনের খায়েস জানাতে পারেন, এতে সে খুশি হয়ে সেদিন হতেই বা পরবর্তী দিন হতেই আপনার মনের আকাঙ্খা পূর্ণ করতে তৎপর হবে। মনে রাখবেন লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। তাকে আপনার নিজ স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবেন সত্য কিন্তু তাকে কখনো নিজের চাকর বা দাসী ভাববেন না। এ বিষয় আরও বিস্তারিত আলোচনা এই চ্যাপ্টারের কোন অংশে করা হবে ইনশা আল্লাহ। ভালো থাকবেন।

মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

ব্ল্যাক ম্যাজিক রহস্য


ব্ল্যাক ম্যাজিক রহস্য
সভ্যতার আদি থেকেই জাদুবিদ্যা আর জাদুকর বিষয়ে মানুষের প্রচণ্ড রকম আগ্রহ। জাদুবিদ্যা মূলত অতীন্দ্রিয় আর প্রাকৃতিক শক্তিকে বশ করার বিদ্যা! ইংরেজি ‘ম্যাজিক’ শব্দের উদ্ভব হয়েছে ফারসি শব্দ মাজি থেকে! মাজিরা যে সব ক্রিয়া-কর্ম পালন করত, গ্রিকরা সেসবকে ম্যাজিক বলে অভিহিত করতেন! আর ম্যাজিকের সঙ্গে আত্মা বা ভূতের বিষয়টি চলে আসে অনিবার্যভাবে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভূত হলো এমন এক জিনিস, যা মৃত ব্যক্তির আত্মা। আর তা জীবিত ব্যক্তির সামনে দৃশ্য আকার ধারণ বা অন্য কোনো উপায়ে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম। ভৌতিক অভিজ্ঞতায় ভূতকে নানাভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কখনো অদৃশ্য বা অস্বচ্ছ বায়বীয় আবার কখনোবা বাস্তবসম্মত সপ্রাণ মানুষ বা জীবের আকারে। আর এসব ভূত বা প্রেতাত্মার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ভবিষ্যদ্বাণী বা কোনো কাজ করার বিদ্যাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক, নেক্রোম্যান্সি বা কালো জাদু বলে। অন্যদিকে এক ধরনের বিশেষ ব্ল্যাক ম্যাজিক হচ্ছে ভুডু। ভুডুবিদ্যার সাহায্যে নাকি কবরের লাশ জ্যান্ত করে তাকে গোলামের মতো খাটানো যায়। অন্যদিকে শামানের কাজও মৃত মানুষের আত্মা নিয়ে। তবে ভুডুর সঙ্গে শামানদের পার্থক্য— এরা মন্দ আত্মার বিরুদ্ধে লড়াই করে। মন্দ আত্মাকে কাজে লাগায়। বিদেশি সিনেমায় এমনকি ভারতীয় সিরিয়ালে প্রায়ই দেখা যায়, একজন দুষ্ট ব্যক্তি একটি পুতুলের গায়ে সুচ ফুটিয়ে আরেক জায়গায় এক ব্যক্তিকে হত্যা করছে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। বাংলায় একে ফুঁক দেওয়া, কবজ করা অথবা বাণ মারা বলে। এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটায় তাদের ওঝা বলে। আর এ প্রক্রিয়াটিই বিশ্বব্যাপী ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদু নামে পরিচিত। খ্রিস্টধর্ম প্রবর্তনেরও আগের কথা। বহুকাল আগে পাশ্চাত্যে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের প্রচলন ছিল না। তবে তাদের মধ্যে অদ্ভুত কিছু বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের চর্চা ছিল। এরা এক একটি গোত্র বিভিন্ন কাল্পনিক ভূত-প্রেত বা অশুভ আত্মার আরাধনা করত। যা আফ্রিকান ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদু নামে পরিচিত। এমনকি এখনো এ বিদ্যার গোপন অনুসারীরা তাদের এ বিদ্যা দিয়ে মানুষের ক্ষতি করে আসছে। এ বিদ্যায় পারদর্শীদের ডাকি বা ওঝা বলে আর আফ্রিকান ভাষায় এদের বলে কিনডকি।
👺আত্মাসংক্রান্ত ধারণা থেকেই উদ্ভব
পৃথিবীতে ধর্মের আবির্ভাবের আগেও মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চর্চা ছিল। আবার ধর্মের আবির্ভাবের পরও এই চর্চা অব্যাহত ছিল। বহুকাল আগে পাশ্চাত্যের ধর্মহীন গোত্রের মধ্যে অদ্ভুত কিছু বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের চর্চা ছিল। এরা এক একটি গোত্র বিভিন্ন কাল্পনিক ভূত-প্রেত বা অশুভ আত্মার আরাধনা করত। আর নিজেদের প্রয়োজনে এই আত্মাকে ব্যবহার করত। এই বিশ্বাসের চর্চা মূলত ছিল আফ্রিকানদের মধ্যে। আর তাই বিশ্বজুড়ে এটি আফ্রিকান ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদু নামে পরিচিত। এমনকি এখনো এ বিদ্যার গোপন অনুসারীরা তাদের এই চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে।
মূলত প্রাক-শিক্ষিত সংস্কৃতির সর্বপ্রাণবাদ ও পূর্বপুরুষ পূজার মধ্যে ভূত বা আত্মাসংক্রান্ত ধ্যান-ধারণার প্রথম বিবরণ পাওয়া যায়। সে যুগে কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রথা, অন্ত্যেষ্টি সংস্কার, ভূত তাড়ানো অনুষ্ঠান ও জাদু অনুষ্ঠান আয়োজিত হতো। আর এসব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মৃত আত্মার সন্তুষ্টি আনয়ন। মূলত আত্মাসংক্রান্ত সেই ধ্যান-ধারণা থেকেই ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদুর বিবর্তন।

👹রোজাদের দাপুটে প্রথা
আদিম সমাজে ওইভাবে ধর্মের চর্চা না থাকলেও যেসব লোক আধ্যাত্মিক চর্চা করতেন, তাদের আলাদা দাপট ছিল। সাধারণ মানুষ এদের প্রচণ্ড রকম ভয়ের চোখে দেখতেন। আদিম সমাজের এমনই এক ধরনের মানুষ ছিল যাদের উইচ-ডক্টর বা রোজা নামে ডাকা হতো। এরা এমন ব্যক্তি ছিলেন যারা ব্ল্যাক ম্যাজিক জানতেন। অতীন্দ্রিয় শক্তির বলে প্রেতাত্মাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। আর প্রেতাত্মাদের দিয়ে সম্ভব-অসম্ভব যে কোনো কাজ করে ফেলতে পারতেন খুব সহজেই। সে কারণে ওই সময় রোজারা একাধারে চিকিৎসক, জাদুকর এবং পুরোহিতের ভূমিকা পালন করতেন। বর্তমানকালেও আদিম-সামাজিক ব্যবস্থায় বসবাসকারীদের মধ্যে উইচ-ডক্টর বা রোজাদের প্রভাব দেখা যায়। আদিম জাতিদের মধ্যে রোজাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হতো।
রোজারা তাদের ডাকিনীবিদ্যা খাটিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে পারত। চোর বা হত্যাকারী ধরা ও শাস্তি প্রদানে রোজাদের অপরিহার্য ভূমিকা ছিল। এ ছাড়াও তারা জাদুবিদ্যার সাহায্যে রোগ নির্ণয় এবং এর প্রতিকার করতেন। তারা তাদের শিশুদের রোগাক্রান্ত করতে পারতেন এবং মানুষের মৃত্যুও ঘটাতে পারতেন। মানুষের মৃত্যু ঘটানোর জন্য তারা নানা ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। কখনো মানুষের একটি ছোট আকৃতির পুতুল তৈরি করে তাতে পিন বিদ্ধ করতেন। আবার কখনো কোনো লোকের চুল বা নখের টুকরো সংগ্রহ করে তা মাটিতে পুঁতে রাখতেন। এগুলো যখন আস্তে আস্তে শুকিয়ে যেত মানুষটিও ক্রমেই মৃত্যুমুখে পতিত হতো। রোজারা প্রায়ই রোগের চিকিৎসার জন্য গাছ-গাছড়া, লতাপাতা ব্যবহার এবং রোগের সংক্রমণ দূর করার জন্য জল ব্যবহার করত। কখনো তারা জাদুকরী পাথরসহ জল ছিটিয়ে দিত।
তারা জাদুকরী গান, প্রার্থনা এবং আশ্চর্য ভঙ্গিমায় নৃত্য করত। এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মনকে প্রভাবিত করা। রোজারা সব সময় রঙিন পোশাক পরত, মুখোশ ধারণ এবং মুখমণ্ডল চিত্রিত করত। কেউ কেউ পশুর চামড়াও পরিধান করত। বস্তুত মানুষকে সম্মোহিত করত। আর লোকজন বিশ্বাস করতে বাধ্য হতো যে তাদের সৌভাগ্যের জন্য রোজারাই দায়ী।
👺 ভুডু বনাম শামান
ভুডু (Voodoo) হচ্ছে এক ধরনের ব্ল্যাক ম্যাজিক বা ডাকিনীবিদ্যা। শোনা যায়, ভুডুবিদ্যার সাহায্যে নাকি কবরের লাশ জ্যান্ত করে তাকে গোলামের মতো খাটানো যায়। শামানের কাজও মৃত মানুষের আত্মা নিয়ে। তবে ভুডুর সঙ্গে শামানদের পার্থক্য হলো— এরা মন্দ আত্মার বিরুদ্ধে লড়াই করে। মন্দ আত্মাকে কাজে লাগায়। ভুডু এক ধরনের অপবিদ্যা। যারা ভুডুবিদ্যা জানে, তারা নাকি ইচ্ছা করলেই যাকে খুশি তার ক্ষতি করতে পারে। তাই এ বিদ্যায় পারদর্শীদের অনেকেই এড়িয়ে চলেন।
তবে শামান সব সময় ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে। শামানকে কেউ বলে জাদুকর, কেউ কবিরাজ। শামান কথাটি এসেছে সাইবেরিয়ার তুঙ্গুস ভাষী মেষ পালকদের কাছ থেকে। অষ্টাদশ শতাব্দীর ভ্রমণকারীরা প্রথম শামানদের ব্যাপারে বিশ্ববাসীকে অবহিত করে। জানা যায়, শামানরা এমন ধরনের মানুষ যাদের রয়েছে অবিশ্বাস্য শক্তি। মৃত ব্যক্তির আত্মার কাছ থেকে জ্ঞান সংগ্রহ করে তারা। ইচ্ছা করলেই নাকি নশ্বর দেহ ত্যাগ করে স্বর্গ বা নরকে স্বচ্ছন্দে প্রবেশ করতে পারে। শামানদের প্রধান বাসস্থান এক সময় সাইবেরিয়া হলেও সোভিয়েতদের অত্যাচারে তারা দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়। তারা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানা জায়গায়। শামান বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে উত্তর আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপের শহরাঞ্চলেও। শামানরা তাদের নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রদর্শনের জন্য ভ্রমণ করছে চিলির সান্তিয়াগো থেকে শুরু করে কোরিয়ার সিউল পর্যন্ত। যদিও অনেক দেশের সরকার শামানিক চর্চাকে অবৈধ এবং বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেছে। কিন্তু রোমান্টিক মানুষের কাছে শামান হলো ধর্মীয় অভিজ্ঞতা লাভের গাইড। আর জাতীয়তাবাদীরা শামানকে মনে করে প্রাচীন সাংস্কৃতিক জ্ঞানের বাহক।
👺শামানদের ইতিবৃত্ত
শামানদের মতে, আমাদের চারপাশে যত উপাদান রয়েছে সব কিছুর মাঝে আছে আত্মার অস্তিত্ব। ‘ভুডু’ কথার অর্থও ‘আত্মা’। এই শব্দটির উৎপত্তি ফন জাতির কাছ থেকে। এরা ইউয়ি সম্প্রদায়ের আত্মীয়। ভুডু চর্চার উৎপত্তি হাইতিতে। তবে আফ্রিকায় এর চর্চা ব্যাপক। ব্রাজিল, জ্যামাইকাতেও কিন্তু কম ভুডু চর্চা হয় না। তবে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নাম। যেমন, হাইতিতে বলা হয় ভুডু, ব্রাজিলে ক্যানডোমবল, জ্যামাইকাতে ওবিয়াহ ইত্যাদি। পশ্চিম আফ্রিকার মানুষ সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে ভুডুতে সেখানকার কমপক্ষে ২৫ লাখ মানুষ এ বিদ্যার অনুরাগী। এ চর্চা সবচেয়ে বেশি হয় আফ্রিকার ঘানায়। ঘানার ককুজানের অধিবাসীরা এ বিদ্যাটির সাংঘাতিক অনুরাগী। এরা অসুখ-বিসুখে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের কাছে যাওয়ার চেয়ে ভুডু চিকিৎসকদের ওপর অনেক বেশি ভরসা করে।
শামানরাও তাই। আত্মার ওপর এদের বিশ্বাস গভীর। এদের ধারণা, আত্মা তাদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করবে। বংশপরম্পরায় এ বিশ্বাস চলে আসছে তাদের মাঝে। আফ্রিকায় যারা ভুডু চর্চা করে তারাও কিন্তু বংশানুক্রমে এ কাজ করে আসছে। আফ্রিকান বাবা-মা তাদের সন্তানদের এ বিদ্যা চর্চায় উৎসাহ জোগায়। প্রতিদিনই সকালে পূজারিরা স্থানীয় দেবতাদের উদ্দেশে নৈর্বেদ্য অর্পণ করে তারপর নিজের কাজে বের হয়। শামানরা শুধু বিশ্বাস করে আত্মায়। তাদের কোনো দেবতা নেই। তবে ভুডু শুধু বিশ্বাস করে আত্মায়। তাদের কোনো দেবতা নেই। তবে ভুডু অনুসারীদের বিভিন্ন দেবতা আছে। যেমন ফ্লিমানি কোকু হলো রোগ মুক্তির দেবতা, হেভিও সো হলো, বিদ্যুৎ এবং ব্রজের দেবতা, মেমি ওয়াটা ধন-সম্পদের দেবী ইত্যাদি। দেবতার ওপর তাদের এত বিশ্বাস যে, তারা মনে করে আগুন তাদের ক্ষতি করতে পারে না। ছুরি দিয়ে পেট কাটলেও তারা ব্যথা পায় না। তারা বলে, দেবতারা তাদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করে।
শামানরাও বলে আত্মা তাদের সব রোগ মুক্তির পথ বাতলে দেয়। যারা এ সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী, তারা বলে শামানদের রয়েছে অলৌকিক ক্ষমতা। এরা আত্মার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে স্বাস্থ্য, খাদ্য, উর্বরতা বিষয়ক সব সমস্যারও সমাধান করে দিতে পারে। শামানদের ব্যাপ্তি সাইবেরিয়া থেকে ল্যাপল্যান্ড, বিব্বত, মঙ্গোলিয়া, উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকা (বিশেষ করে আমাজন এলাকায়) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, এমনকি ভারতেও বিস্তৃত। পূর্ব ভারতে সোরা নামে এক উপজাতি আছে, জঙ্গলে বাস করে। এরাও শামান সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। সোরা উপজাতির লোকেরা মৃতের সঙ্গে কথা বলে। এখানে শামানের ভূমিকা সাধারণত পালন করে মহিলারা। তারা দুই ভুবন অর্থাৎ পৃথিবী ও স্বর্গের মাঝে সমন্বয় সাধন করে বলে শামান অনুসারীদের বিশ্বাস। মহিলা শামানকে কবর দেওয়া হয়। এরপর তার আত্মা চলে যায় অন্য ভুবনে। সেখানে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে সে। লোকে মহিলাকে কথা বলতে দেখে। সোরাদের মতে, মৃত্যু মানে কারও অস্তিত্বের ধ্বংস নয়। মৃত্যু তাদের কাছে নতুন আরেক জীবন মাত্র। মৃত্যুর পরেও আত্মা যথেষ্ট শক্তিশালী থাকে, তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে— এমনটিই বিশ্বাস সোরা উপজাতির।
👺শয়তানের প্রতীক
ব্ল্যাক ম্যাজিকের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো প্রতীক ও সংকেতচিহ্নের ব্যবহার। অনিষ্টকারী শয়তানের প্রতীককে ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ানরা কাজে লাগিয়ে এসেছেন যুগ যুগ ধরে। শয়তানের প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন সভ্যতার মানুষের বিশ্বাস ছিল সেটি হচ্ছে— শিং। ব্ল্যাক ম্যাজিক চর্চায় শিং তাই অপরিহার্য। এক সময়ের বিখ্যাত জাদুকর ছিলেন জোহান রোসা। তার একটা মন্ত্রপুত আংটি ছিল। যেটায় একটা প্রেতাত্মাকে তিনি আটকে রেখে ছিলেন আর এটাকে দিয়ে সব কাজ করাতেন। তার মৃত্যুর পরে প্রকাশ্য জনসভায় আংটিটা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। গর্ভবতী নারীদের প্রসব বন্ধ করা থেকে শুরু করে যৌনাকাঙ্ক্ষা চিরতার্থ করার মতো বীভৎস সব জাদু বিধানের চর্চা হতো তখন। এ সময়ে বিশ্বাস করা হতো বশীকরণের মাধ্যমে মানুষকে দাস বানিয়ে রাখা যায়। যে কোনো বিপজ্জনক কাজে যাওয়ার আগে ‘প্রয়োজনীয় মন্ত্রপুত জামা’ পরে যাওয়ার রীতি ছিল, কুমারী মেয়ের বড় দিনের এক সপ্তাহ ধরে এই ধরনের জামা ঘরে বুনত। ‘বান’ ছেঁড়ার কথা বাংলাদেশে অপরিচিত নয়, মধ্যযুগের এই (Magical Arrow) ধারণাটার ব্যাপক প্রচার ছিল। বিশ্বাস করা হতো এভাবে মানুষের ক্ষতি করা সম্ভব! মধ্যযুগে রেনেসাঁর আলো যতই ছড়াক না কেন, ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ানদের হাত থেকে কেউই রক্ষা পায়নি।
👺জাদুবিদ্যার নানান প্রকার
জাদুবিদ্যার প্রচলন সব সময়ই কৌতূহলজনক। সেজন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমাজবিদ- নৃতাত্ত্বিকরা সমাজে প্রচলিত জাদু বিধানগুলো পর্যালোচনা করে এর শ্রেণি বিভাগ করার চেষ্টা করেছেন। যেমন স্যার জেমস জর্জ ফ্রেজারের মতে জাদুবিদ্যার বিধানগুলো প্রধানত দুই রকমের হোমিওপ্যাথিক এবং কনটেজিয়াস ম্যাজিক।
হোমিওপ্যাথিক ম্যাজিক সব সময়ই শত্রু ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে শত্রুর প্রতিমূর্তি [মোম, মাটি, কাঠ, কাপড়] বা ছবি ইত্যাদি তৈরি করে পুড়িয়ে বা ছুরি দিয়ে কেটে ধ্বংস করা হয়। ধারণা এই যে, মূর্তিটা যে যন্ত্রণা পাচ্ছে, শত্রুও তেমন যন্ত্রণা বা আঘাত পাচ্ছে। এটাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক বলে। তবে এই জাদু আবার অনেক সময় মানুষের উপকার বা ভালোর জন্যও ব্যবহার করা হয়। যেমন ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে এমন একটা জাদু বিধান আছে, কোনো নারীর সন্তান হচ্ছে না, তখন একটা কাঠের ছোট শিশু বানিয়ে নিঃসন্তান রমণীটির কোলে বসিয়ে আদর করে। এর ফলে তার সন্তান হবে এমন ভাবা হয়। কখনো কখনো রোগের চিকিৎসার জন্যও এই ধরনের জাদুর প্রয়োগ দেখা যায়। অন্যদিকে কনটেজিয়াস ম্যাজিক হচ্ছে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ বিশেষ যেমন চুল, নখ, থুথু বা পরিধেয় বস্ত্রের মাধ্যমে জাদু করে মানুষের ক্ষতি বা উপকার করা। এক্ষেত্রে শত্রুর আঙ্গুলের নখ, চুল, ভ্রু, থুথু -এসব সংগ্রহ করে মোমের সাহায্যে শত্রুর একটা অবিকল প্রতিরূপ তৈরি করা হয়। প্রতিমূর্তিটি ছয় দিন ধরে মোমের তাপে ঝলসাতে হবে এবং সাত দিনের দিন মূর্তিটি পুড়িয়ে ফেললে শত্রুর মৃত্যু হবে! জাদুবিদ্যার ধরন আর প্রকারভেদ নিয়ে অনেকে অনেক মত দিয়েছেন, তাদের সব মতবাদ একসঙ্গে করলে বলা যায় জাদুবিদ্যা প্রধানত তিন ধরনের। প্রথমত, সৃজনধর্মী জাদু বা হোয়াইট ম্যাজিক। ফসলের ভালো উৎপাদন, বৃষ্টি নামানো, গাছে ভালো ফল হওয়া প্রেম বা বিয়ে ইত্যাদির উদ্দেশ্যে এ জাদু ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়ত প্রতিরোধক জাদু। এই জাদুকেও হোয়াইট ম্যাজিকের মধ্যেই ফেলা যায়। এটা বিপদ-আপদ এড়ানো, রোগব্যাধি দূর করা আর কালো জাদুর প্রভাব এড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। আর সর্বশেষ প্রকারটিই হচ্ছে ব্ল্যাক ম্যাজিক বা ধ্বংসাত্মক ম্যাজিক। এটি রোগব্যাধি সৃষ্টি, সম্পত্তি ধ্বংস, জীবন নাশের কাজে ব্যবহার করা হয়। ডাইনিবিদ্যায় এর প্রয়োগ বেশি দেখা যায়। সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আজ পর্যন্ত এর প্রভাব দেখা যায় রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ওপর। জাদুবিদ্যার প্রাচীন ইতিহাস যদি আমরা খুঁজে দেখতে চাই তাহলে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে সেই প্যালিওলিথিক যুগের গুহামানবদের গুহাচিত্রের দিকে। অরিগেনেসিয়া নামক গুহায় বেশ কিছু মুখোশ পরা মানুষ আর জন্তু জানোয়ারের ছবি দেখা যায়, যেখানে মানুষগুলোর হাতের আঙ্গুলের প্রথম গিঁট পর্যন্ত কাটা! যদিও নৃতাত্ত্বিকেরা এদের কুষ্ঠরোগাক্রান্ত মানুষ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে জাদুবিদ্যা বিশারদদের মতে মৃত্যুকে জয় করার জন্যই হাতের আঙ্গুল কেটে তা নিবেদন করার রীতি সে আমলে প্রচলিত ছিল। দেহের অংশ বিশেষ দিয়ে গুণ [ব্ল্যাক ম্যাজিক] করার রীতি এদেশেও দেখা যায়। প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলোতেও নানা আঙ্গিকের জাদুবিদ্যা চর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়। সমসাময়িক ধর্মগুরু আর জনগণের মধ্যে। জাদুবিদ্যার এই চর্চা কখনই থেমে থাকেনি। গোপনে একদল ব্ল্যাক ম্যাজিকের চর্চা করে যাচ্ছে।
👺নানান দেশে প্রাচীনকাল থেকেই...
ব্ল্যাক ম্যাজিকের চর্চা হয়ে আসছে বহুকাল আগে থেকেই। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সভ্যতার লোক নয় ইতিহাস বলে বিভিন্ন সভ্যতায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষের একটি অংশ কালো জাদুর চর্চা করে আসছে। কালো জাদু তাই কোনো দেশ কাল পাত্রে সীমাবদ্ধ নয়। ইহুদিরা মিসরে বন্দী অবস্থায় অবস্থানের সময়েই মিসরীয় জাদুবিদ্যার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। অবশ্য তাদের নিজেদেরও আলাদা বৈশিষ্ট্যময় জাদু বিশ্বাস ছিল। ইহুদি জাদুকরেরা বাষ্পস্নানের মাধ্যমে বলি আর উপহার দিয়ে অতিপ্রাকৃত শক্তিকে বশ করার চেষ্টা করত। এদের জাদু চর্চায় স্থূল যৌনাচার হতো। এ ছাড়া অল্পবয়স্ক বালকদের ব্যবহার করত অতীন্দ্রিয় শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। কালো জাদুর ইতিহাস বলে, ব্ল্যাক ম্যাজিকে বিশেষ দক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন কিং সলোমন। তার ‘দ্য কি অব সলোমানদ’ বইটি পরবর্তীকালে জাদুবিদ্যার সর্বশ্রেষ্ঠ বই হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলোতেও জাদুবিদ্যা আর ধর্মের একটা জটিল সংমিশ্রণ দেখা যায়। এখনকার সমাজেও এমন অনেক বৈদিক জাদুবিদ্যাগত প্রক্রিয়া এখনো চালু আছে। হরপ্পা মহেঞ্জোদারতে উত্খননে প্রাপ্ত রিং স্টোনগুলো জাদুবিদ্যায় ব্যবহার করা হতো বলে জন মার্শাল ধারণা করেন। এ ছাড়া জাপানের প্রাচীন শিন্টো ধর্মের মধ্যে জাদুবিদ্যা চর্চার কথা জানা যায়। জাপানিরা বিশ্বাস করে, চালের মধ্যে ব্ল্যাক ম্যাজিক প্রতিহত করার বিশেষ শক্তি আছে। এ ছাড়া রাস্তার সঙ্গমস্থলও তাদের কাছে বিশেষভাবে পবিত্র। এসব স্থানে তারা এখনো জননেন্দ্রিয়র প্রতীক চিহ্ন স্থাপন করে, বিশ্বাস করে এই প্রতীক অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে রাখবে! জাপানিদের মতো চীনাদেরও ভূতপ্রেত সম্পর্কে বেশ ভালোই ভয়ভীতি ছিল। মজার ব্যাপার হলো, চীনের ঘরবাড়ি ও পুল নির্মাণে একটা বিশেষ দেবতা চীনাদের প্রভাবিত করেছে। এই দেবতার নাম হলো শা। শা হলো একটা অপদেবতা। আর চীনারা বিশ্বাস করে এই অপদেবতা সব সময়ে সোজা রেখা বরাবর চলে। তাই এটাকে প্রতিহত ছাদে আঁকা হতো বক্রতা আর কোণ! গ্রিকদের জাদুবিদ্যার জন্য বিশেষ বর্ণমালার সৃষ্টি করেছিল। এগুলো লেখা হতো পবিত্র কালি দিয়ে। আর লেখার সময় বার বার পাঠ করা হতো।
👺ছোট্ট শিশুর দেহে ৫০ সুই
প্রাচীনকালে কালো জাদুর বহু ব্যবহারের কথা শোনা গেলেও এখন ততটা বড় আকারে জাদুচর্চা করার কথা শোনা যায় না। তবে একেবারেই থেমে নেই কালো জাদু। সাম্প্রতিককালেরএমন দুটি ঘটনা মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছে। ব্ল্যাক ম্যাজিকের শিকার হয়ে সরাসরি হাসপাতালে ভর্তি হয় মাত্র দুই বছর বয়সী এক শিশু। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে দ্রুত চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন চিকিৎসক। কারণ এ-ক্সরে রিপোর্টে শিশুটির শরীরের ভিতরের বিভিন্ন অংশে পাওয়া গেল ৫০টির মতো সুই। সুইগুলো দেখেই ব্ল্যাক ম্যাজিকের কথা মনে পড়ে গেল। ৫০টি সুইয়ের মাঝে ১৭টি ছিল বাচ্চা ছেলেটির পরিপাকতন্ত্রের ভিতরে। এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঘটনার তদন্তের জন্য পুলিশ ডাকা হলো। পুলিশও প্রাথমিক মন্তব্য করল, কেউ একজন ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদুর অংশ হিসেবে ছেলেটির দেহে সুই ঢুকিয়ে দিয়েছে। প্রথম সুইটি পাওয়া গেল শিশুটির বাম ফুসফুসের ভিতরে। এক্স-রে করার পর দেখা গেল শিশুটির পেট, গলা, ঘাড় ও পায়ে মোট ৫০টির মতো সুই ঢুকানো হয়েছে। এরপর আর বুঝতে বাকি থাকে না শিশুটি ভয়াবহ ব্ল্যাক ম্যাজিকের শিকার হয়েছে। শিশুটিকে তার এক আত্মীয় হাসপাতালে নিয়ে আসে কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করেনি বিখ্যাত ডেইলি মেইল। ছেলেটির মায়ের নাম মারমা সুজা স্যান্তস। তিনি পুলিশকে জানান, যখন তিনি কর্মস্থলে যেতেন তখন শিশুটিকে দেখাশোনা করতেন শিশুটির দাদিমা। কিন্তু কেউ নিশ্চিত নন, শিশুটির দেহে কে সুই ঢুকিয়েছেন। ধারণা করা হয় তার সৎ বাবা এই কাজটি করে থাকতে পারেন কারণ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ব্ল্যাক ম্যাজিক অনুশীলন করতেন। অভিযুক্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
👹 যেকোনো প্রশ্ন ও পরামর্শে যোগাযোগ নাম্বার : IMO, 01757786808